ধর্ষণের কারণ ও প্রতিকার

একটা কথা প্রচলিত আছে পাগলে কি না করে, ছাগলে কি না খায়.
এই প্রসঙ্গ ধরেই আজকের লেখা, ধর্ষণ ও সাইকোলজি
........
শুরুতেই কিছু প্রশ্ন করা দরকায়?
একটা বাচ্চা মেয়ে বা বোরখা পরিহিতা কেনো ধর্ষনের শিকার হচ্ছে?
পেছনের গল্প টাই বা কি?
৫০-১০০ পূর্বে তো এই সং্খ্যা টা এতো বেশি ছিলো না??
এতো প্রচার, মিডিয়া নারী অধিকার তার পরেও কেনো দিন দিন এই রোগ টা বেড়েই চলেছে??
শুধু কি ধর্ষণ? ইচ্ছাকৃত ভাবে ছেলে মেয়ে যে লিভ টুগেদার করে সেইটা বা কি?? আর মিডিয়া তে আসেই বা কয়টা?? 
প্রকৃত সংখ্যা টা ধরাছোঁয়ার বাহিরে..
............
এবার আসি কিছু লজিক নিয়ে
আচ্ছা আপনার কি মনেহয় ইসলাম শুধু শুধুই নারীদের পর্দার হুকুম দিয়েছে?? কারণ টা কি?
মেয়েরা এমন একটা সম্পদ যা উন্মুক্ত অবস্থায় ফেলে রাখা বিপরিত লিঙ্গের জন্য বেশ উন্মাদনারর কাজ এটা ইসলাম বোঝে, কিন্তু আপনি বা আমি বুঝেও বুঝতে চাই না,
আমার কাছে বা পরিবেশের কাছে মেয়েদের এমন ভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে যা দেখে পুরুষ সমাজের বিশেষ উন্মাদনা জাগে, আর এটাই নাকি স্বাভাবিক!! মানসিক ভাবে আমি পুরুষ আজ কিভাবে নিজেকে সংযত রাখবো যখন মাধ্যমিক বিদ্যালয় গুলোতেই এগুলো শিখেছি পাঠ্যপুস্তকে, আহহহহ কি মজার কাহিনী! আমি সাইকোলজিক্যাল হার্ট হয়েছি, 
একটা গাড়ির বিজ্ঞাপনে যখন একজন অর্ধনগ্ন মেয়ে থাকে তখন আমি ই বা কি করবো!? বাজারে যখন দেখি কোমড়ের ভাজ তখন আমার কি করার থাকে? 
একসময় আমি পাগল হ্যা আমার মস্তিষ্ক বিষয় টা নিতে নিতে আমাকে এমন করে দেয় আমি তখন পাগল, আর পাগলে কি না করে,!! 
আবার দুই একটা এমন পাগল কে যদি চিকিৎসা (শাস্তি) দেওয়া হতো তাহলে বাকিগুলো পাগল হতে গিয়ে হয়তো ভয় করতো, সেটাও হয় না,
মেডিকেল টার্মে আসি এবার,
..........
মেডিকেলীয় টার্মে প্রত্যেক রোগের তিনটি ডায়মেনশান আছে – Agent (রোগের কারন), Host (যার মধ্যে রোগের কারন বা জীবাণু আক্রমণ করে) এবং Environment (যে পরিবেশে রোগ হয়)
উদাহরণ স্বরূপ টাইফয়েড রোগের
এজেন্ট হচ্ছে সালমনেলা ব্যাকোটেরিয়া
হোস্ট – টাইফয়েড রোগী যিনি ব্যাক্টেরিয়া আক্রান্ত পানি/খাবার ভক্ষণ করেছেন
আর পরিবেশ হচ্ছে – দূষিত পানি/খাবার
আবার সড়ক দুর্ঘটনার জন্য
এজেন্ট – অদক্ষ/মাদকাসক্ত ড্রাইভার
হোস্ট – ফিটনেস হীন গাড়ি আর
এনভাইরনমেন্ট – আঁকাবাঁকা রাস্তা, রঙ পার্কিং, অস্পষ্ট রোড সাইন
এই এজেন্ট, হোস্ট এবং পরিবেশের মিথস্ক্রিয়ায় রোগ হয়।
ধর্ষণ একটি নৈতিক রোগ যার
এজেন্ট – বিকৃতকাম নৈতিকতা বিবর্জিত পুরুষ
হোস্ট – নারী আর
পরিবেশ – যৌন সুড়সুড়িময় পরিবেশ যেটির কথা আগেই উল্লেখ করেছি।
এখন মেডিকেলীয় পদ্ধতিতে টাইফয়েড নিয়ন্ত্রণের জন্য
এন্টিবায়োটিক খেতে হবে (সালমনেলা ব্যাক্টেরিয়াকে মেরে ফেলার জন্য তথা এজেন্ট কন্ট্রোল করার জন্য)
দূষিত খাবার/পানি খাওয়া যাবে না (হোস্ট কন্ট্রোল) এবং
পানি দূষণ ও খাবার দূষণ বন্ধ করতে হবে (এনভাইরনমেন্ট কন্ট্রোল)
তেমনি সড়ক দুর্ঘটনা বন্ধে
ড্রাইভারদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্থি প্রদান, তাদের মধ্যে যথাযথ প্রশিক্ষণ (এজেন্ট কন্ট্রোল)
ফিটনেস বিহীন গাড়ির রুট পারমিট বাতিল (হোস্ট কন্ট্রোল)
আঁকাবাঁকা রাস্তা, রঙ পার্কিং, অস্পষ্ট রোড সাইন বন্ধ করতে হবে (এনভাইরনমেন্ট কন্ট্রোল)
তেমনি ধর্ষণ বন্ধের জন্য
দৃষ্টান্তমূলক উন্নত শাস্থি (সৌদি আরবের মত), পুরুষদের মধ্যে নৈতিক শিক্ষা জাগ্রত করা – এজেন্ট কন্ট্রোল
নারীদের সভ্যভাবে চলতে উদ্ভুদ্ধ করণ (হোস্ট কন্ট্রোল)
এবং নাটক, গান, গল্প সাহিত্য, বিজ্ঞাপনে নারীকে পণ্য রূপে উপস্থাপন বন্ধ করতে হবে (এনভাইরনমেন্ট কন্ট্রোল)
আমার আছে এন্টিবায়োটিক, আমি ইচ্ছামত বিশুদ্ধ দূষিত সব খাব, কিন্তু টাইফয়েড হবে না – এটা হয় না
তেমনি নৈতিকতাবোধ জাগ্রত না করে, নারীদের সভ্যভাবে চলতে না বলে, পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ না করে, শুধু পুরুষদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়ে ধর্ষণ বন্ধ হবে না।

Share this

Related Posts

Previous
Next Post »

অংকুরোদগম

অঙ্কুরোদগম আশিক আল জাবির ............ আমিও একদিন, উচ্ছাসিত প্রণয়ের বীজ বপন করবো; উজাড় দেহে, দু মুঠো ভরে দেবো জলের মায়ার এক ফোটা জল, জোস্...